Showing posts with label পৃথিবী. Show all posts
Showing posts with label পৃথিবী. Show all posts
পৃথিবীর ইতিহাস
পৃথিবীর জন্ম কীভাবে তা আমরা কয়জন জানি? এটা আমাদের সবারই জানা যে পৃথিবীটা বেজায় প্রাচীন। আমাদের বয়স তার তুলনায় কিছুই না। কিন্তু কোথা থেকে এলো এই পৃথিবী? কি করে হলো প্রাণের উৎপত্তি? একটু আধটু ধারণা থাকলেও একেবারে পরিষ্কার ছবিটা ভাসে না অনেকের মনেই। এই ছবিগুলোর সাহায্যে দেখে নিন আমাদের পৃথিবীকে, একেবারে শুরু থেকে বর্তমান মানব সভ্যতা পর্যন্ত!
পৃথিবীর ইতিহাস

সৃষ্টির শুরু

ঠিক কখন পৃথিবী তৈরি হয়? একেবারে শুরুর কোনো পাথর টিকে নেই, তাই সঠিক করে বলা যায় না। তবে ধারণা করা হয় সৌরজগৎ সৃষ্টির মোটামুটি ১০০ মিলিয়ন বছর পর একগুচ্ছ সংঘর্ষের ফল হলো পৃথিবী। আজ থেকে ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী নামের গ্রহটি আকৃতি পায়, পায় লৌহের একটি কেন্দ্র এবং একটি বায়ুমণ্ডল।
পৃথিবীর ইতিহাস

পৃথিবী-চাঁদ সংঘর্ষ

“থিয়া” নামের মোটামুটি মঙ্গলের আকৃতির একটা গ্রহাণুর সাথে সংঘর্ষ হয় পৃথিবীর। পৃথিবী মোটামুটি আস্তই থাকে কিন্তু বায়ুমণ্ডল উবে যায় আর ধ্বংস হয়ে যায় এই গ্রহাণুটি। এর ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয় চাঁদ।
পৃথিবীর ইতিহাস

গলিত লাভার সমুদ্র

থিয়ার সাথে সংঘর্ষের ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পৃথিবী। গলিত লাভার টগবগ করতে থাকা সমুদ্র চারিদিকে। শুক্র গ্রহের অবস্থা এখন যেমন, তখন পৃথিবীর অবস্থা ছিলো তেমন। আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয় পৃথিবী, লাভা জমাট বেঁধে তৈরি করে পাথর আর পানি জমতে শুরু করে পৃথিবীর প্রথম সাগরে। এ সময়ে তৈরি হয় পৃথিবীর প্রাচীনতম খনিজ, জিরকন। এদের বয়স মোটামুটি ৪.৪ বিলিয়ন বছর।
পৃথিবীর ইতিহাস

প্রথম মহাদেশ

এখন পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশ বসে আছে অতিকায় সব টেকটোনিক প্লেটের ওপরে। আদিম টেক্টোনিক প্লেট কিন্তু ছিলো অনেক ছোট। এদের মাঝে অনেক সময়ে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ- রৌপ্যের মতো দামি ধাতু পাওয়া যায়। আজ থেকে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে তৈরি হয়েছিলো প্রথম এসব মহাদেশ।
পৃথিবীর ইতিহাস

প্রাণের প্রথম নিঃশ্বাস

মোটামুটি ৩.৫ বিলিয়ন বছর আগে সালোকসংশ্লেষণ থেকে আসে প্রথম অক্সিজেন। পাথরের ওপরে জন্মানো সায়ানোব্যাকটেরিয়া বা নীলচে সবুজ শ্যাওলা থেকে প্রথম অক্সিজেন আসে। তবে এটা আসলে ভালো কিছু করেনি। এই অক্সিজেনের উপস্থিতির কারণে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া মরে যায় যারা অক্সিজেন এর উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না। আর এভাবে ২.৪ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে অক্সিজেন অনেক বেশি বেড়ে যায় যাকে বলে হয়ে থাকে “Great Oxygenation Crisis”।
পৃথিবীর ইতিহাস

নিরুপদ্রব এক বিলিয়ন বছর

প্রথম মহাদেশ তৈরি হবার পর এক বিলিয়ন বছর তেমন কিছুই হয়নি পৃথিবীতে। একেবারে একঘেয়ে একটা সময় গেছে। মহাদেশগুলো আটকে ছিলো একটা ট্রাফিক জ্যামে অর্থাৎ তেমন একটা নড়াচড়া করেনি। প্রাণের তেমন কোন উন্নতিও ঘটেনি এ সময়ে।
পৃথিবীর ইতিহাস

মহা-মহাদেশ

মহা-মহাদেশের মাঝে একটি হলো প্যানগায়া। এখানে পরবর্তীতে উৎপত্তি ঘটবে ডায়নোসরের। অন্যটি হলো ইউরেশিয়া। এখনো বিভিন্ন পর্বতমালা দেখে গবেষকেরা বের করতে পারেন ঠিক কিভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকা একত্রে যুক্ত থেকে এসব বিশাল মহা-মহাদেশের সৃষ্টি করেছিলো।
পৃথিবীর ইতিহাস

ভয়ংকর শীতকাল

৭৫০ বছর আগে হঠাৎ করেই একটা বড় মহাদেশ অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে বের হয়ে যায়। এ সময়ে পৃথিবী একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে একটা বিশাল বরফের গোলায় রূপান্তরিত হয়। এ সময়ে হিমবাহ দিয়ে ঢাকা ছিলো ভূপৃষ্ঠ। এমনকি বিষুবীয় অঞ্চলেও ছিলো হিমবাহ।
পৃথিবীর ইতিহাস

প্রাণের বিস্ফোরণ

৬৫০ মিলিয়ন বছর আগে বায়ুমণ্ডলে আবারো বাড়তে শুরু করে অক্সিজেন এবং এ সময়ে বিভিন্ন প্রাণীর উদ্ভব হতে থাকে। এককোষী প্রাণীর পাশাপাশি এসে পড়ে বহুকোষী প্রাণী। এই সময়সীমার মাঝেই শিকার এবং শিকারির উদ্ভব হয়।
পৃথিবীর ইতিহাস

প্রাণীজগতের বিলুপ্তি

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে বড় বিলুপ্তির ঘটনা ঘটে আজ থেকে ২৫২ মিলিয়ন বছর আগে পারমিয়ান পিরিয়ডে। মাত্র ৬০ হাজার বছরের মাঝে প্রায় ৯০ শতাংশ জীবের বিলুপ্তি ঘটে। ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে ক্রেটেশাস পিরিয়ডে বিলুপ্তি ঘটে ডায়নোসর সহ ৮৫ শতাংশ জীবের। পারমিয়ান পিরিয়ডে এই বিলুপ্তির কারণ ছিলো সাইবেরিয়ায় এক বিশাল অগ্ন্যুৎপাত। পরিবেশ পরিবর্তনের কারণেও বিলুপ্তি ঘটতে দেখা গেছে। ৪৫০ মিলিয়ন বছর আগে বড়সড় একটা তুষার যুগের কারণে বিলুপ্তি ঘটে ৭৫ শতাংশ জীবের।
পৃথিবীর ইতিহাস

বরফ যুগ

পাঁচটি বড় বরফ যুগ দেখা যায় পৃথিবীর ইতিহাসে। আপনি কি জানেন, এখনও আমরা একটি বরফ যুগের মাঝে বাস করছি? আজ থেকে প্রায় ১১,৫০০ বছর আগে শুরু হয়েছিলো এই বরফ যুগ।
পৃথিবীর ইতিহাস

প্লাস্টিক যুগ?

বর্তমান সময়ে প্লাস্টিকের এতো বেশি আবর্জনা জমে গেছে যে অনেক বিজ্ঞানী একে প্লাস্টিক যুগ বা প্লাস্টিসিন পিরিয়ড বলে আখ্যা দিচ্ছেন। এসব প্লাস্টিকের কিছু আবার নতুন এক ধরনের পাথরেও রূপান্তরিত হয়েছে। আজ থেকে মিলিয়ন বছর পরেও এসব প্লাস্টিকের চিহ্ন পাওয়া যাবে পৃথিবীর বুকে।
কেমন হবে ২০৫০ সালের পৃথিবী! বর্তমানের বাস্তবতায় ভবিষ্যতের পৃথিবীর কথা ভেবে অনেকেই চিন্তিত। জলবায়ু পরিবর্তন, বর্ধিত জনসংখ্যা আর সঙ্কুচিত হতে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদের কথা ভেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুখ-স্বাচ্ছ্যন্দের ব্যাপারে অনেকেই সন্দিহান।

তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই, গবেষকরা জানিয়েছেন পরবর্তী প্রজন্ম অনেক আরাম আয়েশেই থাকবে।
যুদ্ধবিগ্রহ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির মত সমস্যা তো থাকবেই, কিন্তু সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবিকাশে উঁকি দেবে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। 
গবেষকদের মতে ২০৫০ সার নাগাদ বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির মিলিত উৎকর্ষে মানুষের জীবনযাত্রা হবে অনেক বেশি চিত্তার্ষক। গাড়ি চালাতে লাগবে না চালক, প্রেমিকা না জুটলেও অসুবিধা নেই, মিলবে কৃত্রিম প্রেমিকা, এমনকি অমরত্ব লাভের সুযোগও থাকবে সেই প্রজন্মের সামনে।
২০৫০ সালে পৃথিবীর জীবনযাত্রা কেমন হবে তার একটি রূপকল্প তুলে ধরেছে খ্যাতনামা সাময়িকী ‘বিজনেস ইনসাইড’। সেই রূপকল্প অবলম্বনে কেমন হতে পারে ভবিষ্যতের পৃথিবী তার একটি কথাচিত্র তুলে ধরা হলো বাংলানিউজের পাঠকদের জন্য।
কেমন হবে ২০৫০ সালের পৃথিবী ? থাকবে কৃত্রিম শয্যাসঙ্গী!

পূর্ণ হবে অমরত্ব লাভের স্বপ্ন!

আগামী দশকগুলোতে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন কম্পিউটারে মানব মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন করতে সফল হবেন তারা । এর মাধ্যমে আজীবনের জন্য কৃত্রিম শরীরের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে মানুষ, পূর্ণ হবে অমরত্বের স্বপ্ন!

রাশিয়ান ধনকুবের দিমিত্রি ইসকোভের অর্থায়নে নিউরোসাইন্টিস্ট র‌্যান্ডাল কোয়েন চেষ্টা করছেন মানব চেতনা ও মস্তিষ্ককে যেন আগামী ২০৪৫ সালের মধ্যে কৃত্রিম শরীরে প্রতিস্থাপন করা যায়।
এমনকি এখন যারা বেঁচে আছেন তারা মারা গেলেও এক সময় নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে তারা বেঁচে উঠবেন, কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত নিজেদের মস্তিষ্কের সাহায্যে। এমন আশার কথা শোনাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
এজন্য বিজ্ঞানীরা এখন গবেষণা করছেন কেমিক্যাল সলুশনের মাধ্যমে কিভাবে মস্তিষ্ককে অনন্তকাল সতেজ রাখা যায়।

এ ব্যাপারে ব্রেন প্রিসার্ভেশন ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞানী কেনেথ হেইওয়ার্থ বলেন, আমরা যদি মস্তিষ্ককে আজীবন সংরক্ষণের উপায় বের করতে পারি তাহলেই সম্ভব হবে দ্বিতীয় উপায়। এমনকি ২০১৫ সালের মধ্যেই মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের নতুন উপায় আবিষ্কার হবে বলেও তার ধারণা।

বের হবে এইডস আর ক্যান্সারের প্রতিষেধক!

যদিও আমরা জানি না ভবিষ্যতে আর কোন ধরনের রোগ আমাদের সামনে হুমকি হিসেবে দেখা দেবে, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে এখনকার সবচেয়ে প্রাণঘাতী রোগগুলো থেকে মুক্তি মিলবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এমনকি উদ্ভাবিত হবে ক্যান্সার ও এইচআইভি প্রতিষেধকও!
গবেষকরা আশাবাদী আগামী ২০ বছরের মধ্যে তারা এমন টিকা আবিষ্কার করতে পারবেন যার দ্বারা এইডস প্রতিরোধ সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ লোক মারা যায় এইডস রোগে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল অব লাইসেস্টার এনএইচএস ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট মার্টিন উইসেলকা এ ব্যাপারে বলেন, ভবিষ্যতে আমাদের গবেষকরা এমন প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারবেন যার মাধ্যমে এইচআইভি’র মত ভাইরাস প্রতিরোধ করা যাবে।
ক্যান্সারও নির্মূল হবে। উদ্ভাবিত ন্যানোপার্টিক্যাল ক্যানসার স্টেম সেলে আক্রমণ চালিয়ে ক্যান্সারের জীবাণুকে ধ্বংস করবে। উদ্ভাবিত হবে ক্যান্সার ভ্যাক্সিন।
তাছাড়া প্রায় সম্পূর্ণভাবে দূর হবে ম্যালেরিয়ার মত রোগ। প্রতিষেধকের পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার বাহক মশাদের ধ্বংস করতে উদ্ভাবন হবে জেনেটিক্যালি মডিফাই মশা। আলঝেইমার রোগেরও কারণ ও প্রতিকার বের হবে। মেনিনজাইটিস রোগের প্রতিষেধক ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

মিলবে কৃত্রিম প্রেমিকা!

২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও ইতিবাচক প্রয়োগ হবে। কার্নেগি মেলোন ইউনিভার্সিটির রোবোটিক ইন্সটিটউটের হ্যান্স মোরাভেক বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে স্বাধীনভাবে ঘুড়ে বেড়ানো রোবোট মানুষের শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ অনেক অনেকটাই কমিয়ে দেবে। বেঁচে যাওয়া এই সময় মানুষকে সুযোগ করে দেবে আরও বেশি করে সামাজিক ও বিনোদনমূলক কাজে সম্পৃক্ত হবার। এছাড়া গবেষণাগারে কাজ করতে দেখা যাবে রোবোট বিজ্ঞানীদের।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে উদ্ভাবিত হবে আবেগ অনুভূতি সম্পন্ন রোবোট। এমনকি রোবোট হবে মানুষের শয্যাসঙ্গী। মানুষ তার জৈবিক চাহিদা মেটাবে কৃত্রিম মানুষের মাধ্যমে।  মানুষের মতই যৌন আচরণ করতে পারবে তারা।
২০৫০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের এ যাবৎকালের অর্জিত জ্ঞান বিজ্ঞানকে ধারণ করতে সক্ষম হবে। তাদের মানুষের মত অনুভূতি থাকবে, এমনকি বুদ্ধিমত্তার সাথে কথাবার্তা চালানোর পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও তৈরি করবে তারা।

ইন্টারনেটের জালে ধরা পড়বে পুরো বিশ্ব!

২০৫০ সাল নাগাদ ইন্টারনেট পৌঁছে যাবে বিশ্বের সর্বত্র। ব্যবহারকারী হবে বিশ্বের প্রায় সবাই।
ফোরাম ফর দি ফিউচার ফাউন্ডারের গবেষক জোনাথন পোরিট ধারণা করছেন ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৮ ভাগ বা ৮শ’ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, যার অনেকেই সংযুক্ত হবেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। বর্তমানে বিশ্বের ৪০ শতাংশ লোক ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আছেন। 
গুগলসহ বিশ্বের আরও অনেক তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই সারা বিশ্বের সবখানে ইন্টারনেট ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে।

গাড়ি চলবে নিজের বুদ্ধিতে !

আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই যানবাহনের জন্য কোনো ড্রাইভারের প্রয়োজন হবে না। মিলকেন ইন্সটিটউটের তথ্য মোতাবেক ২০৩৫ সালের মধ্যেই পৃথিবীর সব গাড়ি হবে চালকমুক্ত। মানবীয় ভুলের সম্ভাবনা না থাকায় এই সব চালকবিহীন গাড়ি হবে বেশি নিরাপদ।

এছাড়া ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির জয়জয়কার হবে। ইতালীয় জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনেলের মতে ২০৫০ সাল নাগাদ প্রতি বছর বিশ্বে ইলেক্ট্রিক গাড়ির উৎপাদন দাঁড়াবে ১০ কোটিতে। যা সারা বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের ৩০ শতাংশ হ্রাস করবে। 

শিশুর অকাল মৃত্যু আর হবে না !

চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষের যুগেও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি দূর হয়নি পৃথিবী থেকে। এখনও বিশ্বের দেশে দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন চলতি শতকের মাঝামাঝি নাগাদ এ অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছে পৃথিবী। গবেষণা সংস্থা কোপেনহেগেন কনসেনসাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী পূর্ববর্তী কয়েক দশকে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুর হার দ্রুতগতিতে কমে এসেছে, এই ধারা আরও গতিশীল হবে পরবর্তী কয়েক দশকে।
ইউনিসেফের তথ্য মোতাবেক ১৯৯০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে শিশু মৃত্যুর হার কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি হাজারে ৯০ থেকে ৪৮। ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার নেমে আসবে প্রায় শূণ্যের কোঠায়। এই সময়ের মধ্যে আবিষ্কার হবে মায়ের থেকে শিশুদের এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়। পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা ও রোগ প্রতিরোধের নতুন নতুন পন্থা আবিষ্কৃত হবে এই সময়ের মধ্যে যা জন্মের পরপরই শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনাকে তিরোহিত করবে অনেকখানিই।

গরিব দেশ আর গরিব থাকবে না !

২০৩৫ সালের মধ্যেই ‘গরিব’ এমন অপবাদ থেকে মুক্ত হবে এখনকার অনেক ‘গরিব দেশ’। গত বছর এমন পূর্বাভাস করছিলেন বিল গেটস। গবেষকরা জানাচ্ছেন আসলেই সম্ভব হবে বিল গেটসের স্বপ্ন। ২০৫০ সালের মধ্যেই পৃথিবীর কথিত গরিব দেশগুলো তাদের গরিবী তকমা ছুড়ে ফেলতে পারবে।
ধারণা করা হচ্ছে, যদি স্বল্পোন্নত দেশগুলো তাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখে তবে ২০৫০ সালে চরম দরিদ্র লোকের সংখ্যা ২.৫ শতাংশে নেমে আসবে। বর্তমানে এই হার ২১ শতাংশ।

গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমবে ৮০ ভাগ !

২০৫০ সালের মধ্যে বাড়বে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত জ্বালানির ব্যবহার। গ্রিসহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমবে ৮০ ভাগ। বাড়বে রিনিউবেল এনার্জির ব্যবহার। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবার কাছে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পৌঁছে যাবে, যার ৯৫ শতাংশই হবে রিনিউবেল এনার্জি।
২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে সৌরশক্তি থেকে। ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বায়ুশক্তি থেকে। এছাড়া সাগরের ঢেউ এবং জিয়োথার্মাল পাওয়ারের মাধ্যমেও উৎপাদিত হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি।

নারী পুরুষ সমানে সমান

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য মোতাবেক ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্ব থেকে দূর হবে লিঙ্গ বৈষম্য। নারী ও পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর হয়ে সমাজে বিরাজ করবে সামাজিক সমতা।
সন্তানকে দেখাশোনার পাশাপাশি পারিবারিক কাজে সমান সমান সময় দিতে হবে নারী পুরুষকে। নারীরা যে কোনো কাজে পুরুষের সমান অনুপাতে অংশগ্রহণ করবে এবং সমান বেতন পাবে। 

নিরক্ষরতা হবে দূর

বর্তমানে বিশ্বের ২৩.৬ শতাংশ লোক লিখতে পড়তে জানেন না। কিন্তু কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের মতে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই হবে লেখাপড়া জানা। নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা নেমে আসবে মাত্র ১২ শতাংশে। এ সব শিক্ষিত মানুষ ভূমিকা রাখবেন স্ব স্ব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে।

এ সব ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যিই বাস্তবে পরিণত হয় তবে ভাবুন তো কেমন হবে ২০৫০ সালের পৃথিবী। অনেকের কি আফসোস হচ্ছে না কেন এত তাড়াতাড়ি এলাম এ পৃথিবীতে, এই ভেবে ! 
ল্যান্ডস্কেপ আর্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
পৃথিবীর আকর্ষনীয় দশটি প্রাকৃতিক আর্চ

ল্যান্ডস্কেপ আর্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক এই আর্চটি আমেরিকার ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত। এটি দেখতে অনেকটা ছবির ফ্রেমের মতো। এই আর্চটির স্প্যানিং প্রায় ২৯০ ফুট এরও বেশি।
ল্যান্ডস্কেপ আর্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ল্যান্ডস্কেপ আর্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

Durdle Door ,যুক্তরাজ্য

ডুরডল

Durdle Door ,যুক্তরাজ্য

এই আর্চটি যুক্তরাজ্যের জুরাসিক সমুদ্র উপকুলের কাছে অবস্থিত। এই আর্চটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি চুনা পাথরের তৈরি। Durdle শব্দটি এসেছে ইংরেজী শব্দ 'thirl' থেকে বা drill থেকে।

মুন হিল বা চাঁদের পাহাড়, চীন

মুন হিল

মুন হিল বা চাঁদের পাহাড়, চীন

দক্ষিন চীনের গুয়াংজি অঞ্চলের ঠিক বাহিরে ইয়াংসুতে এই চাদের পাহাড় অবস্থিত।এর ভিতরে রয়েছে চুনা পাথরের গুহা।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এই আর্চটি প্রায় ১৬৫ ফুট উচু।

রেনবো ব্রীজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

রেইনবো

রেনবো ব্রীজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

রেনবো ব্রীজটিকে খুব সম্ভবত পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সেতু বা ব্রীজ বললেও ভুল বলা হবে না।এই ব্রীজের তলদেশ দিয়ে আমেরিকার বিখ্যাত কলোরাডো নদীর শাখা নদী বয়ে গেছে।এই প্রাকৃতিক ব্রিজের উচচতা প্রায় ২৯০ ফুট।

পন্ট ডি’আর্ক, ফ্রান্স

পন্ট

পন্ট ডি’আর্ক, ফ্রান্স

ফ্রান্সের বিখ্যাত নদী আরডেচি নদীর উপকুলে এটি অবস্থিত।এখানে পর্যটকদের জন্য কায়াকিং স্পট রয়েছে।এই প্রাকৃতিক সেতু প্রায় ২০০ ফুট চওড়া এবং ১৭৫ ফুটের বেশী লম্বা।

আজুর উইন্ডো,(নভোনীল উইন্ডো) মাল্টা

আজুর

পন্ট ডি’আর্ক, ফ্রান্স

গোযো এর মাল্টীয় দ্বিপে এই চিত্তাকর্ষিত আর্চটি সমদ্রের তীর ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে।সমুদ্র স্রোতের কারণে এর তলদেশ প্রায় ক্ষয় প্রাপ্ত।

ইম্মর্টাল ব্রিজ বা অমর সেতু,চীন

চীন

পন্ট ডি’আর্ক, ফ্রান্স

দেখেই বুঝতে পারছেন কতটা ঝুকিপূর্ণ এই প্রাকৃতিক শিলা পাথরের তৈরি এই সেতুটি।এই শিলা সেতু দুইটি (মাউন্ট তাই এবং ফল্ট ব্লক)পাহাড়কে যদিও একত্রিত করেছে তবুও মনে হয় এটা কেউই ব্যবহার করে না।

গ্রীন ব্রীজ অফ অয়েলস,যুক্তরাজ্য

গ্রীন

গ্রীন ব্রীজ অফ অয়েলস,যুক্তরাজ্য

এই চিত্তাকর্ষক প্রাকৃতিক সমুদ্র আর্চটি ওয়েলসের ন্যাশনাল পার্কে দেখা যাবে।

আর্কো ন্যাচারাল, ইতালি

আর্কো

আর্কো ন্যাচারাল, ইতালি

এই প্রাকৃতিক আর্চটি পূর্ব আইস ল্যান্ড অফ কাপরিতে অবস্থিত।এই আর্চটি পুরাপলীয় যুগের বলে মনে করা হয়।

ডিলিকেট আর্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ডেলকেট

ডিলিকেট আর্চ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই আর্চটি উতেহ ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত। এই আর্চটি বেলে পাথরের ।এটি তুষারপাত এবং ক্ষয় এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বলে মনে করা হয়।
পৃথিবীর তুলনায় প্রায় হাজার গুণ বড় গ্রহের সন্ধান
পৃথিবীর তুলনায় প্রায় হাজার গুণ বড় গ্রহের সন্ধান
 পৃথিবীর থেকে কয়েকশো গুণ বড় গ্রহ আবিষ্কার করলেন জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা। এই গ্রহের নাম কেপলার ১০ সি (টেন সি)। তাঁদের চিন্তাভাবনার ঊর্ধ্বে এই গ্রহের আয়তন। ভরের হিসাব মতে গ্রহটি গ্যাসের নয়, পাথরের। যার মানে ওই গ্রহেও রয়েছে প্রাণের সম্ভাবনা। জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা মনে করতেন সৌর জগতের বাইরে অন্য গ্রহদের জগত আমাদের সৌর পরিবারের মতো সুন্দর এবং পরিচিত।

কিন্তু গবেষণা যত এগিয়েছে, বিজ্ঞানীদের ভুল ভেঙেছে। ১৯৯৫ তে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন ৫১ পিগাসি বি (৫১ চবমধংর ন)। বৃহস্পতির মতো দেখতে কিন্তু এই বিশালাকার গ্যাসীয় গ্রহের তাপমাত্রা বৃহস্পতির থেকে কয়েকশো গুণ বেশি।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন "মিনি নেপচুন"। পৃথিবীর থেকে খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এই গ্রহগুলো যতটাই কঠিন জলের সম্ভাবনা ততটাই বেশি। এমন রহস্যময় মহাবিশ্বে মাঝের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা দ্বন্দ্বে পড়ে যান। কিন্তু হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, তাঁরা এমন এক গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন এই মহাবিশ্বের সব থেকে বড় গ্রহ। পরিভাষায় যাকে বলে মেগা আর্থ (গবমধ ঊধৎঃয)। ওজনে পৃথিবীর থেকে প্রায় ১৭ গুণ ভারী।

এই গ্রহ কেপলার ১০ সি (টেন সি) নামে পরিচিত। কিন্তু হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ডিমিটার স্যাসোলভ এই গ্রহের আয়তন নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, "এটি হলো পৃথিবীর গডজিলা"। পৃথিবী থেকে ৫৬০ আলোকবর্ষ দূরে এই গ্রহের অবস্থান। আমাদের গ্রহের মতো দেখতে হলেও প্রাণের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে ভবিষ্যতে জলের সন্ধান মিলতেও পারে কারণ অক্সিজেনের উপস্থিতি রয়েছে। কেপলার ১০ সি-র মধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই বেশি, বিশাল তাপ ও চাপে সবকিছু কঠিনে পরিণত হয়েছে। তবে সেখানে কেপলার ১০ সি একাই নেই, রয়েছে সহোদর কেপলার ১০ বি। ২০১১ তে আবিষ্কার হয়। পৃথিবীর চেয়ে প্রায় তিন গুণ বড় এই গ্রহ।
জনশূন্য পৃথিবী পথেই কি এই সভ্যতা ? 
চারদিকে যুদ্ধ-বিগ্রহ আর নিউক্লিয়ার বোমার এই যুগে আমাদের ভাবতে হবে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যারা এখনো পৃথিবীতে আসেনি। একশো দুইশো নয়, ভাবতে তবে এক হাজার বা দুই হাজার বছর পরের প্রজন্মের কথা। চারদিকে দৃষ্টি দিলে তাদের জন্য স্রেফ আশা পুষে রাখা ছাড়া আরো কোনো উপায়ই যেনো নেই। তাই বুকে আশা ধরে রেখে  এসব বিষয়ে কেউ আর তেমন ভাবেন না।
তবে সবাই এ ভাবনা থেকে সরে যাননি। সেই মধ্যযুগের  নস্টারডামস পর্যন্ত এই গ্রহের শেষ পরিণতি জানার চেষ্টা করেছিলেন। 'দ্য টাইম মেশিন' বইয়ে এইচজি ওয়েলস মানবজাতির ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পাওয়ার জন্য দৃষ্টিপাত করেছেন।
এসব ভবিষ্যতদ্রষ্টা মানুষের চেষ্টার পরও কিছুই বদলায়নি। যুগ যুগ ধরে মানব জাতি নিজেরাই তার নিজের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আর আধুনিক যুগে এমন অবস্থা হয়েছে যে, ভবিষ্যত পৃথিবী নিয়ে শুধু আশঙ্কাই প্রকাশ করতে হয়। এখন পর্যন্ত আমরা প্রযুক্তিতে বিস্ময়করভাবে এগিয়ে গেলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সামাল দিতে অক্ষম।
মানুষের নিজেরা অদৃশ্যবাদের বিষয়ে অসহায় বোধ করে। বহুদিন থেকেই পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার কথা বলা হচ্ছে বিভিন্ন আলামত দেখে। কিন্তু তা কখন আসবে এবং যদি এসেই পড়ে তবে ভবিষ্যতের মানুষগুলোর জন্য আমরা কী রেখে যাবো তার কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। যদি আমাদের এই বিশাল উন্নতি, বুদ্ধিমত্তা ও মানবতা হারিয়ে যায়, তবে পরের অংশে কী হবে?
মানব জাতির ইতি ঘটবে এমন পাঁচটি ঘটনার কথা এখানে বলেছেন বিশেষজ্ঞ। কিন্তু এই তালিকাই শেষ কথা নয়। আমাদের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি এমন 'সুপার ভলকানো' খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৭০ এর প্রথম দিকে। আণবিক বোমা বানানোর 'ম্যাটহাটান প্রজেক্ট' এর আগে নিউক্লিয়ার যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা ছিলো না, কিন্তু এখন রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে অনেক কিছু না ঘটার কথা বলা হলেও পরিবেশ ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যেকোনো কিছু ঘটার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখানে দেখা যাক মানব জাতির ইতি ঘটাতে পারে এমন পাঁচটি বিষয়।
১. নিউক্লিয়ার যুদ্ধ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দুটো নিউক্লিয়ার বোমার ব্যবহার হয়। এর ভয়াবহতা প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ করেছে মানব জাতি। সেই থেকে নিউক্লিয়ার বোমার ব্যবহার আর সম্ভব নয় মনে করা হলেও, ক্ষমতাশালীরা কিন্তু এই বোমার মাধ্যমেই নিজেদের ক্ষমতাবান হিসেবে প্রকাশ করছে। কিউবার 'মিসাইল ক্রাইসিস' প্রায় নিউক্লিয়ার বোমায় রূপ নিতে যাচ্ছিল। প্রতি ৬৯ বছরের মধ্যে যদি একবার এই বোমার মালিক হওয়ার চেষ্টা করে কেউ, তবে প্রতি তিনটি ঘটনার মধ্যে একটি সম্ভাবনা থাকে নিউক্লিয়ার যুদ্ধ হওয়ার। আমেরিকা ও সোভিয়েতের ইতিহাস নিউক্লিয়ার যুদ্ধের সম্ভাবনায় পূর্ণ ছিলো। পরিস্থিতি বদলে গেলেও সেই উত্তেজনা এখনো জিইয়ে রাখা হয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাকে শুন্যের কোঠায় নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নিউক্লিয়ার যুদ্ধ হলেই পৃথিবীটা মানবশুন্য হতে সময় লাগবে না। পাশাপাশি অন্য হুমকি হচ্ছে 'নিউক্লিয়ার উইন্টার'। জলবায়ু যেভাবে বদলে যাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে খাদ্যের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে এবং না খেয়ে মারা যাবে মানুষ।
২. বায়োইঞ্জিনিয়ার
যুদ্ধের চেয়ে ভয়াবহ খুনীর রূপ নিতে পারে বায়োইঞ্জিনিয়ার। মানুষের মাঝে রোগ ছড়িয়ে গেলে তার ফলাফল কী হয় তা দেখা গেছে ইউরোপে সিফিলিসের আক্রমণের পর।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা মরণ রোগ তৈরি করতে পারি এবং একে ব্যবহার করা হতে পারে শত্রু নিধনে। ইঁদুরের পক্সে একটি জিনের সংযোজনে স্মল পক্সের জন্ম হয়। সম্প্রতি বার্ড ফ্লুয়ের সংক্রমণ প্রমাণ করেছে যে, বায়োইঞ্জিনিয়ার ক্রমাগত নতুন রোগের সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে এই জৈব প্রকৌশল অনেক সহজ ও সস্তা হয়েছে যা মানুষকে আরো রোগ সৃষ্টি করার কাজকে সহজ করবে।
আয়ুম শিনরিকোয়ো নার্ভ গ্যাসের পাশাপাশি অন্যান্য বায়োউইপন ব্যবহার করেছিলেন মানব জাতিকে শেষ করার জন্য। যারা মানুষবিহীন পৃথিবীকে পছন্দ করেন, তাদের সংখ্যা গুটিকয়েক হলেই মানব জাতি তার অন্তিম মুহূর্ত দেখবে।
৩. সুপারইন্টেলিজেন্স
ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তা মানুষকে আজ এতো দূর এনেছে। কিন্তু অনেক কিছু বানাতে ব্যবহার করা হচ্ছে সুপারইন্টেলিজেন্স সফটওয়্যার। এর ব্যবহার দিয়ে মানুষ কল্পনাকে বাস্তবায়িত করছে ঠিকই, তবে এর দ্বারা অসৎ মহা পরিকল্পাকেও বাস্তবায়িত করা অসম্ভব নয়। কারণ সুপারইন্টেলিজেন্স এর মধ্যে মানবিকতা দেওয়া যায়নি।
এ বিষয় নিয়ে সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয়টি হলো, আমরা জানি না সুপারইন্টেলিজেন্সের মহা বিস্ফোরণ ঘটতে পারে কিনা, আর ঘটলেই বা কী হতে পারে। তা ছাড়া আমাদের বিজ্ঞান যে হারে কাজ করতে পারে, সুপারইন্টেলিজেন্স তার তুলনায় বিদ্যুৎবেগে কাজ সারতে পারে। তার এ কাজে আমাদের নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে কী ঘটবে আমরা জানি না। এই বিষয়টিতে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীসতায় ভুগছেন বর্তমানকালের বিজ্ঞানীরা।
৪. ন্যানোটেকনোলজি
একেবারে অণুর আকারের একটি বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় ন্যানোটেকনোলজি। এতে খারাপ কিছুর আশঙ্কা না থাকলেও যদি ধ্বংসের কাজে এর ব্যবহার হয়, তবে তা কীভাবে ঠেকানো যেতে পারে তার কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। যেকোনো কিছুর এমন অতি ক্ষুদ্র সংস্করণ বানানো প্রায় অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে বায়োলজি মৌলিকভাবেই কার্যকর। কিন্তু ন্যানোটেক আমাদের কতো দূর নিয়ে যাবে বোঝা যাচ্ছে না। যদি এটিও ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে মানবজাতির ইতি ঘটাতে সবচেয়ে ছোট এবং ভয়ঙ্কর শত্রুর যোগ হবে।
৫. অজানা শত্রু
ওপরের প্রত্যেকটি বিষয় একাই এই পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তারওপর রয়েছে এগুলোর এখন পর্যন্ত না জানতে পারা অধ্যায়। এগুলোর ভবিষ্যত চেহারা কেমন হবে বা এর ব্যবহার কী ধরনের হবে তা এখনো অজানা। আর খারাপ উদ্দেশ্যে যদি ব্যবহার করা হয়, তবে এখনকার নমুনা দেখেই বলা যায় মানবজাতির ইতি এসবেই লুকিয়ে রয়েছে।
এগুলোর পাশে রয়েছে পুরোপুরি অজানা আশঙ্কা যার কেবল আন্দাজ করতে পারছে বিজ্ঞান, ব্যাখ্যা করতে পারছে না।
এই তালিকায় জলবায়ুর পরিবর্তনের করাল গ্রাস এবং উল্কাপিণ্ডের আঘাতের কথা বলা হয়নি। জলবায়ুর পরিবর্তনে যেকোনো প্রাকৃতির দুর্যোগের মোকাবিলা করতে থাকবে মানব জাতি। কোনভাবে হয়তো এদের থামানো যাবে। ভয়ংকর উল্কার আঘাতে মানব জাতির বিশাল অংশ শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু পৃথিবী ধ্বংস করার মতো দুর্যোগ ও উল্কার আঘাতের সম্ভাবনা প্রতি এক মিলিয়ন বছরের মধ্যে একবারেরও কম। তাই এগুলোকেও উপেক্ষা করা হয়েছে।
কিন্তু ওপরের তালিকার বিষয়গুলো মানুষের নিজের তৈরি। তই এর প্রয়োগ তারাই ঘটাতে পারে। আর এসবের শক্তি অসীম যা ঠেকানোর সাধ্য এখন পর্যন্ত বের করা যায়নি। ঠেকানোর একটিই উপায় রয়েছে। তা হলো, এগুলোর প্রয়োগ ঘটতে না দেওয়া। 
পৃথিবীতে সবচাইতে শান্তিপূর্ণ  সাতটি দেশ !! 
সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় জ্যামের মধ্যে বসে থেকে কিংবা বাজারে জিনিসপত্রের দাম দেখে যে কেউ মন মেজাজ খারাপ করে বলবেন- এই দেশে একবিন্দু পরিমাণে শান্তি নেই! আর এই কথার সাথে অনেকেই একমত হবেন। আবার অনেকের কাছেই দিন যেমনই হোক না কেন, রাতে বিছানায় গা এলিয়ে শোয়ার পর বলবেন, ‘আহ! কি শান্তি’। তাহলে শান্তি জিনিসটি আসলে কী? কেন এবং কোন কোন কারনে আমরা শান্তিতে থাকি এবং কোন কোন কারনে আমরা অশান্তিতে থাকি?
এই সব শান্তি ও অশান্তির ধরণ নিয়ে কাজ করে ‘ইন্সটিটিউট অফ ইকোনোমিক পিস’। তারা সকল দিক বিবেচনা করে ও জরিপের মাধ্যমে নির্বাচন করেন বিশ্বের শান্তিপূর্ণ দেশগুলো। তাদের জরিপে পাওয়া বিশ্বের সব চাইতে শান্তিপূর্ণ ৭ টি দেশ নিয়ে আমাদের আজকের ফিচার।

ডেনমার্ক

বিশ্বের সব চাইতে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে প্রথমে রয়েছে ডেনমার্ক। এই দেশের মানুষগুলোর মধ্যে শান্তির প্রথম ও প্রধান কারণ হিসেবে গবেষকরা বলেন ‘ডেনমার্কের লোকজন কখনোই যুদ্ধ বিদ্রোহে যান না, তাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য নিজেদের অর্থনৈতিক দিক’। এছাড়াও ডেনমার্কের মানুষগুলো অনেক বেশি বন্ধুভাবাপন্ন ও সহযোগী মনোমানসিকতা সম্পন্ন

নরওয়ে

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স অনুযায়ী নরওয়ে অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ একটি দেশ। এই দেশে অপরাধীর সংখ্যা কম এবং অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় এই দেশে অপরাধের সংখ্যা অনেক কম। থাকার জন্য বেশ নিরাপদ এই জায়গার মানুষজন অনেক বন্ধুভাবাপন্ন। যার কারনে এই দেশটি রয়েছে ২য় স্থানে।

সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরের সিকিউরিটি সিস্টেম এবং জননিরাপত্তা সবার প্রথমে আসে। এই দেশ অন্যান্য যে কোনো দেশের তুলনায় প্রায় ৯০% নিরাপদ থাকার জন্য বলে গ্লোবাল পিস ইনডেক্স হতে জানা যায়। এই দেশটি ইউনাইটেড নেশনের সাথে একযোগে কাজ করে, আর তাই অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই দেশটি উন্নত।

স্লোভানিয়া

অসাধারণ সুন্দর এই ইউরোপের দেশটি বিশ্বের সব চাইতে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে অনেক বেশি জনপ্রিয়। এই দেশটি রাজনৈতিক যে কোনো ধরনের ঝামেলামুক্ত। এই দেশে অনেক কম অপরাধ সংঘটিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে বিধায় থাকার জন্য বেশ নিরাপদ এই দেশটি।

সুইডেন

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সুইডেন সব চাইতে সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ একটি দেশ। এই দেশটি ইউরোপের সব চাইতে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও এই দেশটির রয়েছে অনেক কম অপরাধের রেকর্ড। এবং যুদ্ধ বিদ্রোহেও এই দেশটি বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

আইসল্যান্ড

অসাধারণ ঐতিহ্যবাহী এই দেশটির রয়েছে সব চাইতে কম অপরাধীর রেকর্ড। এবং এই দেশটি পর্যটনের জন্য বেশ ভালো একটি স্থান বিধায় প্রচুর টুরিস্ট এই দেশে যান। তাদের জরিপে জানা যায় আইসল্যান্ডের অধিবাসী বেশ শান্তিপ্রিয় এবং সহযোগী মানসিকতা সম্পন্ন।

বেলজিয়াম

বেলজিয়াম অর্থনৈতিক ভাবে বেশ স্বাবলম্বী একটি দেশ। যখন পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে ২০০৮-২০১১ সালের মধ্যে, তখনও বেলজিয়ামের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়েনি।
- See more at: http://www.priyo.com/2014/04/12/64077.html#sthash.7m3GKlTf.dpuf